যুক্তরাজ্যের লন্ডনে লেবার পার্টির নেতা এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নাম দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে জয়ী হয়ে ৫৬ বছর বয়সী বার্নাম এই পদে আসীন হচ্ছেন। সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তিনি ব্রিটেনের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যাত্রা শুরু করবেন। গত এক দশকে দেশটির সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন, যখন ব্রিটেন ধীরগতির অর্থনীতি ও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া
সোমবার কিয়ার স্টারমার বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা বার্নামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। আমন্ত্রণ গ্রহণের মুহূর্ত থেকেই তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণ্য হবেন। এরপর তিনি সরাসরি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে প্রথম ভাষণ দেবেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করবেন। ব্রিটিশ সংবিধান অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো সাধারণ নির্বাচনের প্রয়োজন নেই, কারণ লেবার পার্টি হাউজ অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রেখেছে।
অ্যান্ডি বার্নামের রাজনৈতিক পরিচয়
‘কিং অব দ্য নর্থ’ হিসেবে পরিচিত বার্নাম ২০১৭ সালে ওয়েস্টমিনিস্টার ছেড়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। করোনা মহামারীর সময় উত্তরাঞ্চলীয় ইংল্যান্ডের পক্ষে জোরালো অবস্থান এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের দাবি তোলায় তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। তার এই জনপ্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের ক্ষমতা তাকে লেবার পার্টির জনপ্রিয় নেতাদের সারিতে নিয়ে এসেছে।
সরকারের অগ্রাধিকার
দায়িত্ব গ্রহণের পর বার্নামের প্রথম প্রধান কাজগুলোর একটি হতে পারে থেমস ওয়াটার কোম্পানিকে বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় আনা, যার মাধ্যমে কোম্পানিটিকে সাময়িকভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পুনর্গঠন করা হবে। এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করাকে নিজের সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি। লন্ডনের বাইরে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডসহ পুরো যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন এই প্রধানমন্ত্রী।










