ইয়েমেনের তাইজ শহরের উপকণ্ঠে ১১ বছর বয়সী হাসনা জাবেরকে স্কুলের বদলে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। দেশটির দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে হাসনার মতো লাখ লাখ শিশু পড়াশোনা ছেড়ে জীবিকা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। হাসনা ও তার মতো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে আল জাজিরায় এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইয়েমেনে প্রায় ৩২ লাখ শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় অনেক বেশি।
হাসনার মতো অনেক শিশুরই স্বপ্ন ছিল শিক্ষিত হওয়ার। কিন্তু পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের চাহিদা মেটাতে তারা শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছে। হাসনার বাবা জাবের আলি জানান, দুই বছর ধরে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর খরচ মেটানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আমার সামনে দুটি পথ ছিল—সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে না খাইয়ে রাখা, অথবা তাদের কাজে লাগিয়ে জীবন বাঁচানো। আমি দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছি কারণ এখন শিক্ষার চেয়ে খাবার পাওয়াটা জরুরি।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা পরিকল্পনার তথ্যমতে, ২০২৬ সালে ইয়েমেনের প্রায় ৬৬ লাখ শিশুর শিক্ষা সহায়তা প্রয়োজন। সংঘাত ও দারিদ্র্যের কারণে শিশুরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষাবিদ আম্মার আল-শারজাবি সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে সমাজে নিরক্ষরতা, বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বাড়বে যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের পড়াশোনা করাতে আগ্রহী, কিন্তু চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখে তারা অসহায়। বর্তমান যুদ্ধের প্রভাব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে শিশুদের এই স্কুল ত্যাগের হার বাড়ছে। সিভ দ্য চিলড্রেনের তথ্য অনুযায়ী, ৮৪ শতাংশ পরিবার ইউনিফর্ম ও পাঠ্যবইয়ের মতো প্রাথমিক শিক্ষাসামগ্রীর খরচ মেটাতে পারছে না। ১৩ বছর বয়সী আহমেদ আব্দুল্লাহর মতো অনেক শিশু তাদের পরিবারের হাল ধরতে পড়াশোনা ছেড়ে দোকান বা অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে, যা তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।









