ব্রাজিলের সাও পাওলোর নিকটবর্তী শিল্পনগরী সাও বার্নান্দো দো কাম্পোতে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা তার চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা করেছেন। প্রায় ৪৭ বছর আগে যে স্টেডিয়াম থেকে শ্রমিক নেতা হিসেবে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল, সেখানেই বিশাল জনসমাবেশে তিনি আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জয়ী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ৮০ বছর বয়সী লুলার জন্য এটিই হতে পারে তার শেষ বড় রাজনৈতিক লড়াই।
ব্রাজিলের বর্তমান ভোটাররা অত্যন্ত মেরুকৃত অবস্থানে রয়েছেন। গত কয়েক বছরে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে ডানপন্থী রাজনীতির প্রভাব বেড়েছে, যার পেছনে অর্থনীতি এবং অপরাধ দমনের ইস্যুগুলো বড় ভূমিকা রাখছে। লুলার এবারের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, উচ্চ ঋণ এবং জনসাধারণের মধ্যে বিরাজমান অস্থিরতা। সরকারিভাবে বেকারত্বের হার ৫.১ শতাংশের নিচে নেমে এলেও সাধারণ মানুষ উচ্চ সুদ এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে শঙ্কিত।
লুলা সরকার এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় ঋণ সম্প্রসারণ, আয়কর ছাড় এবং জ্বালানি ভর্তুকিসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিরোধী পক্ষ, বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোর ছেলে ও বর্তমান সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা বলে জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ফ্লাভিও তার প্রচারণায় লুলার বিরুদ্ধে অপরাধী চক্রগুলোর কাছে নতি স্বীকারের অভিযোগ এনেছেন এবং ক্ষমতায় এলে মেগা-প্রিজন তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নির্বাচনী জরিপে লুলা কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ভোটের লড়াই অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্রাজিলের রাজনীতি রক্ষণশীল ডানপন্থী এবং মধ্যপন্থী প্রগতিশীলদের মধ্যে বিভক্ত। ফলে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা ভোটারদের সমর্থনই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।









