বাংলাদেশের ঢাকায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, একটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বুধবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই সাময়িক সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এফএসআরইউ-তে যান্ত্রিক সমস্যার ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত সারিয়ে তুলতে প্রকৌশলীরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে মনির হোসেন চৌধুরী স্বীকার করেন যে, দেশে দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা জ্বালানি খাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ায় বর্তমানে অবকাঠামোগত কোনো সমস্যা হলে তা জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে সরকার ১০০টি গ্যাস কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার একনেক সভায় বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে তিনটি কূপ খননের জন্য ৭২৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের নেওয়া অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করা, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই, ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার ব্যবস্থা করা এবং বিদ্যমান কূপগুলোর ওয়ার্কওভার কার্যক্রম জোরদার করা।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এফএসআরইউ-এর যান্ত্রিক সমস্যার সমাধান হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।









