বাংলাদেশের ঢাকার বিজয়নগরে সিএনজি বিক্রির কমিশন বৃদ্ধিসহ চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী। জ্বালানি খাতের এই সংকটময় মুহূর্তে মালিকদের এই কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে ৮ টাকা কমিশন পাচ্ছেন স্টেশন মালিকরা। গত ১১ বছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম কয়েক দফা বাড়লেও এবং মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকদের বেতন, ব্যাংক গ্যারান্টি, ঋণের সুদ ও ডলারের বিনিময় হার বাড়লেও কমিশনের হার অপরিবর্তিত রয়েছে। এর ফলে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন লোকসানে চলছে।
মালিকদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সিএনজি বিক্রির কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ১৩ দশমিক ৯৬ টাকায় উন্নীত করা এবং জ্বালানির দাম বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশন সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা। এছাড়া গ্যাসের দাম বাড়ার পর গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেওয়া বন্ধ করা এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের লিজ চার্জ ও বিভিন্ন সংস্থার লাইসেন্স ফি যৌক্তিক করার দাবি জানানো হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সারাদেশে প্রতীকী ধর্মঘট পালন করা হবে। এই সময়ের মধ্যে আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে। এরপরও কোনো সুরাহা না হলে ২৩ আগস্ট থেকে সারাদেশে সিএনজি স্টেশনগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে একাধিকবার ধর্না দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর আগে মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার উচ্চপর্যায়ের কমিটি কমিশন ২ দশমিক ৯৮ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ করলেও ২০১৫ সালে বিইআরসি মাত্র ১ টাকা বাড়িয়েছিল, যা এখনো কার্যকর হয়নি। যেহেতু সিএনজির কেনা ও বিক্রয়মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দেয়, তাই পরিচালন ব্যয় বাড়লেও মালিকদের তা সমন্বয়ের কোনো সুযোগ নেই।









