বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ থেকে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা সুদ আয় করেছে। এটি গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার ও কুপন রেট তুলনামূলক বেশি থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই আয় সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি নোট ও বিভিন্ন বৈদেশিক বন্ডে বিনিয়োগ থেকে ৫ হাজার ৬১১ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এছাড়াও বিদেশি ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিয়ে ২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা এবং স্বল্পমেয়াদি আমানত থেকে ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা সুদ হিসেবে পাওয়া গেছে। অন্যান্য বৈদেশিক সম্পদ থেকে আরও ৮৭১ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাত থেকে আয় ছিল ৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা।
অভ্যন্তরীণ খাতে আয়
রিজার্ভ বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকার ও বাণিজ্যিক ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বড় অঙ্কের আয় করেছে। গত অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আয় হয়েছে ২২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে দেওয়া ঋণ থেকে সুদ বাবদ এসেছে ২১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। মূলত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতিসুদহার ১০ শতাংশে বজায় রাখায় ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয়েছে, যা আয়ে প্রভাব ফেলেছে।
নিট মুনাফা ও সরকারি কোষাগার
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পরিচালন আয় হয়েছে ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। পরিচালনাসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই মুনাফা ছিল ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে এই নিট মুনাফার পুরোটাই সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।









