ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা দীর্ঘ আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আন্দোলনকারী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এটিকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে অভিহিত করার পর দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়া হাজার হাজার সমর্থক বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) হিন্দি ভাষায় পোস্ট করা এক বার্তায় তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
সিজেপি মূলত কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি অনলাইন ব্যাঙ্গাত্মক প্রচার মাধ্যম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে তৈরি একটি ককরোচকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে ভারতের তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ ও দাবির একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও চাকরির সুযোগ বৃদ্ধির দাবিতে গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে তারা এই আন্দোলন চালিয়ে আসছিল।
চলতি সপ্তাহের সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা করার সময় পুলিশের কঠোর দমন-পীড়নে বহু আন্দোলনকারী আহত হওয়ার পর এই বিক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নেয়। এর আগে গত ২৮ জুন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন। শুক্রবার ভোরে সরকারের কাছ থেকে দাবিপূরণের আশ্বাসের পর তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ তাদের বড় একটি জয়। তবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, তাদের লড়াই এখানেই শেষ নয়। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ এবং সম্প্রতি পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনার বিচার চেয়ে তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।










