Home / রাজনীতি / ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের প্রধান সমর্থক ছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম

ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের প্রধান সমর্থক ছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্পকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রমের পক্ষে সাফাই গাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহাম ছিলেন সামনের সারিতে। হোয়াইট হাউসে তার নিয়মিত যাতায়াত প্রমাণ করে যে, ট্রাম্পের প্রশাসনে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

সংক্ষেপে যা জানা গেছে

  • সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
  • ইসরায়েলের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে তিনি সবচেয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন।
  • ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানের সঙ্গে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়েও তিনি ট্রাম্পকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছেন।
  • হোয়াইট হাউসে নিয়মিত উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মার্কিন রাজনীতিতে রিপাবলিকান দলের জ্যেষ্ঠ নেতা লিন্ডসে গ্রাহাম গত কয়েক বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কারিগরদের একজন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ইসরায়েলকে সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহাম সরাসরি ট্রাম্পকে পরামর্শ দিতেন কীভাবে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপগুলোকে বিশ্বমঞ্চে বৈধতা দেওয়া যায়।

ইসরায়েলের সামরিক কৌশল এবং আত্মরক্ষার অধিকারের প্রশ্নে গ্রাহাম সর্বদা কঠোর অবস্থানে ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কালে যেসব বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর নেপথ্যে গ্রাহামের প্রভাব স্পষ্ট ছিল। ইউক্রেন ইস্যু কিংবা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার রোধে গ্রাহামের নেওয়া কঠোর অবস্থানগুলো ট্রাম্পের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। হোয়াইট হাউসে তার ঘনঘন আসা-যাওয়া ছিল ট্রাম্পের সাথে তার গভীর সম্পর্কের প্রতীক, যা রিপাবলিকান পার্টির বৈদেশিক নীতিতে ইসরায়েলপন্থি অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বিশ্লেষণ

লিন্ডসে গ্রাহামের এই ভূমিকা কেবল ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অংশ ছিল না, বরং এটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্প এবং গ্রাহামের এই অঘোষিত মৈত্রী ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। সাধারণত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বিভিন্ন মহলের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা থাকলেও, গ্রাহামের প্রভাবের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েল-কেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতিতে অনেক বেশি একমুখী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়।

এর প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং রিপাবলিকান দলের আদর্শিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহাম যেভাবে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপকে নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি দিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে ইসরায়েলকে এক অপরিহার্য মিত্র হিসেবে ধরে রাখার প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। সামগ্রিকভাবে, এটি বিশ্বের উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং নির্দিষ্ট মিত্রদের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

সূত্র: france24.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *