আফ্রিকায় হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে অস্থিরতার ফলে মহাদেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাফায়েল শিখানি মনে করেন, বর্তমান সময়টি ‘পোস্ট-হরমুজ যুগ’ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে, যেখানে বিশ্ব অর্থনীতি একটি মাত্র চোকপয়েন্ট বা সংকীর্ণ পথের ওপর নির্ভরশীল নয়। এই পরিস্থিতিতে আফ্রিকা মহাদেশ তার ঐতিহাসিক ভূ-রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার এক অনন্য সুযোগ পেয়েছে।
আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলো দীর্ঘকাল ধরে সমুদ্রকে কেবল একটি ভৌগোলিক সীমানা হিসেবে দেখেছে, অর্থনৈতিক বা সামরিক শক্তির উৎস হিসেবে নয়। এই মানসিকতাকে ‘থ্যালাসোফোবিয়া’ বা সমুদ্রভীতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষক। মহাদেশটির দেশগুলো নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে এবং ভিন্ন ভিন্ন আঞ্চলিক স্বার্থের কারণে সম্মিলিত কোনো সমুদ্র নিরাপত্তা কৌশল গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমানে আফ্রিকার তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং খনিজ সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও দেশগুলো বিশ্ব রাজনীতিতে কেবল সম্পদের যোগানদাতা হিসেবে কাজ করছে। কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অর্জনের জন্য আফ্রিকাভুক্ত দেশগুলোর এখন নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করা জরুরি। সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আন্তঃআঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং একক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আফ্রিকা বিশ্ব বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
এই লক্ষ্য অর্জনে দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, মিশর, মরক্কো, কেনিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং সেনেগালের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ইয়েকুন্ডে আর্কিটেকচারের মতো মডেল অনুসরণ করে সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যৌথ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং একটি সমন্বিত সামুদ্রিক তহবিল গঠনের মাধ্যমে পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।










