Home / আন্তর্জাতিক / জাম্বিয়ায় নির্বাচনের পর শীর্ষ বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার, সরকার বলছে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা

জাম্বিয়ায় নির্বাচনের পর শীর্ষ বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার, সরকার বলছে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা

জাম্বিয়ার লুসাকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েকদিন পর ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা প্যাট্রিক কাংওয়া জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা রয়েছেন। একটি সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা ও সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অভিযান ও গ্রেপ্তার

প্যাট্রিক কাংওয়া দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সামরিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলি চালানো হয়, যার প্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট এডগার লুঙ্গুর মেয়ের জামাই প্যাট্রিক মোয়ানসাও রয়েছেন। বর্তমানে তাদের লুসাকার বিভিন্ন থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাখা হয়েছে।

বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া

প্রধান বিরোধী প্রার্থী ব্রায়ান মুন্দুবিলকে এই অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে আখ্যায়িত করেছেন। মুন্দুবিলের দাবি, শুক্রবারে তার বাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, কোনো ধরনের সামরিক প্রশিক্ষণ বা মিলিশিয়া তার বাড়িতে ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, সাঁজোয়া যান নিয়ে আসা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে এবং তার চোখের সামনেই সাবেক মন্ত্রী মুতোতওয়ে কাফওয়াকে গুলি করা হয়েছে।

নির্বাচনী পরিস্থিতি

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অর্ধেকের বেশি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমা ৬২ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন, আর বিরোধী প্রার্থী মুন্দুবিলের প্রাপ্ত ভোট ৩৬ শতাংশ। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজধানী লুসাকার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং সাউদার্ন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি (সাদেক) পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *