সুদানের রাজধানী খার্তুমে শান্তি আলোচনা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) একটি প্রতিনিধি দল দুই দিনের সফর শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়নের পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি কাউন্সিল (পিএসসি) সুদানের সামরিক কর্তৃপক্ষ এবং সংঘাত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
বর্তমানে সুদান যুদ্ধের এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস (এসএএফ) রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিলেও, পশ্চিমাঞ্চলের দারফুর এলাকা এখনো র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া কর্ডোফান অঞ্চল নতুন করে যুদ্ধের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কোনো পক্ষই এখনো চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে না পারায় যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ
আফ্রিকান ইউনিয়নের লক্ষ্য হলো যুদ্ধরত এসএএফ এবং আরএসএফকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানো এবং একটি টেকসই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া। এইউ মনে করে, কেবল যুদ্ধ থামানোই যথেষ্ট নয়, বরং ২০১৯ সালে ওমর আল-বশিরের পতনের পর থেকে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ
এইউ-এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে এমনভাবে সংলাপে আনা যাতে তা কেবল দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগির চুক্তিতে সীমাবদ্ধ না থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, এইউ-এর কাছে সরাসরি যুদ্ধ থামানোর মতো পর্যাপ্ত এনফোর্সমেন্ট মেকানিজম বা আর্থিক চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা কম। ফলে তাদের পুরো প্রক্রিয়াটি কূটনৈতিক চাপের ওপর নির্ভর করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সুদানের এই যুদ্ধ একটি অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। উভয় পক্ষই বাইরের সহায়তা পাওয়ায় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে, কিন্তু চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারছে না। আফ্রিকান ইউনিয়নের এই প্রতিনিধি দলের মূল চ্যালেঞ্জ হলো যুদ্ধের এই স্থবিরতাকে কূটনৈতিক সাফল্যে রূপান্তর করা, যাতে দেশটিকে স্থায়ী বিভাজনের হাত থেকে রক্ষা করা যায়।










