রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয়জন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত গভর্নর আলেকজান্ডার শুভায়েভ টেলিগ্রামে এই তথ্য জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই হামলার ফলে সীমান্তবর্তী ভালুইস্কি জেলার কোলোসকোভো গ্রামে একটি ভবন পুড়ে গেছে এবং একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
একই সময়ে রাশিয়ার আসত্রাখান অঞ্চলে ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর ইগর বাবুশকিন। তিনি জানান, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি শিল্প স্থাপনা, তবে সেখানে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি।
এদিকে ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় শহর ওদেসায় রাশিয়ার হামলায় একটি বেসামরিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রধান ওলেহ কিপার।
গত কয়েক দিনে উভয় দেশ একে অপরের ওপর ব্যাপক মাত্রায় হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে ইউক্রেন ৮২২টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়, যার বেশিরভাগই ছিল মস্কো অভিমুখে। রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলেও শনিবারের হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি এই হামলা নিয়ে ইউক্রেনের গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিটস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সামরিক লজিস্টিক ব্যবস্থা লক্ষ্য করে তাদের দূরপাল্লার হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, ওয়াইল্ডবেরিসের মতো রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতাদের লজিস্টিক সেন্টারগুলো সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের ১৩টি অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় ১,৫৫০টির বেশি ড্রোন, ১,৫৬০টি গাইডেড এরিয়াল বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। এর আগে শনিবার রাশিয়ার হামলায় জাপোরিঝিয়া ও কিয়েভসহ বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরু করে এবং বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ করে আসছে।










