অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যে বন্দুক নিয়ন্ত্রণে বিশেষ বাইব্যাক কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। অঙ্গরাজ্যটির প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস জানিয়েছেন, সিডনির বন্ডাই বিচে ইহুদি উৎসবে সন্ত্রাসী হামলার পর বন্দুকের সংখ্যা কমিয়ে আনতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় লাইসেন্সবিহীন বা অতিরিক্ত বন্দুক জমা দিলে মালিকদের নগদ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর সিডনির বন্ডাই বিচে একটি ইহুদি উৎসবে বন্দুকধারীর হামলায় ১০ বছর বয়সী শিশুসহ ১৫ জন প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া সরকার কঠোর অস্ত্র আইন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তৎকালীন ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে এক হলোকাস্ট সারভাইভারও ছিলেন।
কর্মসূচির বিস্তারিত
নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকার জানিয়েছে, রিভলবার জমা দিলে মালিকরা সর্বোচ্চ ১০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। এছাড়া এয়ার রাইফেলের জন্য ৪৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বছরের শুরুর দিকে দ্বিতীয় ধাপে উচ্চমূল্যের আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সংগ্রহ করা হবে, যার ক্ষতিপূরণের সীমা সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ অর্থায়নে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
অস্ত্র মালিকানা নীতি
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ চারটি আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক হতে পারবেন। তবে কৃষক বা ক্রীড়া শুটারদের ক্ষেত্রে এই সীমা সর্বোচ্চ ১০টি। যাদের কাছে বর্তমানে অতিরিক্ত আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে অথবা যাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের এই কর্মসূচির আওতায় অস্ত্র জমা দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। অস্ত্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই উদ্যোগের বিষয়ে বলেন, বন্ডাই বিচের মতো বর্ণবাদী ও সন্ত্রাসী হামলা যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ কারণে দেশজুড়ে অর্থবহ অস্ত্র আইন সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।










