ইরানের তেহরান ও ওমানের মাস্কাটের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। দুই দেশই এখন গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট রুট ও স্থানাঙ্ক নির্ধারণে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়াটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ওমানের সাথে তাদের আলোচনা বেশ এগিয়েছে। যদি কোনো তৃতীয় পক্ষ এতে বাধা না দেয়, তবে খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত সমঝোতা স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ওমানের সাথে দ্বিপাক্ষিক এই চুক্তি মানেই হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে যাওয়া নয়। বাঘাইয়ের মতে, এই অঞ্চলে অস্থিরতার মূল কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নৌ উপস্থিতি এবং ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ-অবরোধ।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, নতুন পরিকল্পনায় জাহাজ চলাচলের রুটগুলো ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্য দিয়ে যাবে। ইরান এই রুটগুলো দুই থেকে চার মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য কার্যকর রাখতে আগ্রহী। পাশাপাশি, উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে জাহাজ চলাচলের সহায়তামূলক সেবার বিনিময়ে ইরান মাশুল আরোপের বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের মাশুল বা ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে নারাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মাশুল আরোপের বিষয়টি তার প্রশাসন মেনে নেবে না। বিশ্বের বড় বড় জাহাজ মালিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও সতর্ক করেছে যে, কোনো ধরনের টোল বা মাশুল আরোপ আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের পরিপন্থী এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওমান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে এবং উভয় পক্ষই কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কেউই তাদের কৌশলগত অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসতে রাজি নয়। যদিও এই চুক্তির মাধ্যমে প্রণালীটি পুনরায় সচল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তবুও দেশ দুটির দীর্ঘদিনের সংকট সহসাই সমাধান হওয়ার কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।










