গ্রিসের এথেন্সে স্কটিশ স্বেচ্ছাসেবী এলিজাবেথ রসকে হত্যার দায়ে শরীফ আহমদজাই নামের ২৬ বছর বয়সী এক আফগান বক্সারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গ্রিসের একটি আদালতে তাকে হত্যার অভিপ্রায়, ডাকাতি এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। এই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ নিহত এলিজাবেথ রস গ্রিসে শরণার্থী সহায়তা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন এবং তার নৃশংস মৃত্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
গত ১৮ জুলাই এথেন্সের কিপসেলী এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে স্যুটকেসবন্দি অবস্থায় ৩৮ বছর বয়সী এলিজাবেথ রসের মরদেহ উদ্ধার করেন একজন গৃহহীন ব্যক্তি। নিহত এলিজাবেথ স্কটল্যান্ডের এডিনবরা থেকে গ্রিসে এসেছিলেন। তিনি কেরাতসিনি এলাকায় থেকে শরণার্থী সহায়তায় কাজ করছিলেন।
তদন্ত ও অভিযোগ
গ্রিসের সংগঠিত অপরাধ দমন শাখার তথ্যমতে, ৩০ জুলাই শরীফ আহমদজাইকে আটক করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে যে, হত্যার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর মরদেহ স্যুটকেসে ভরে পরিত্যক্ত ওই স্থানে ফেলে রেখেছিল। হত্যার পর এলিজাবেথের ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার ইউরো (প্রায় ৮,৫০০ পাউন্ড) চুরির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া এলিজাবেথের মোবাইল ফোন থেকে বন্ধুদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে নিজেকে জিহাদি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে আহমদজাইয়ের বিরুদ্ধে।
আদালতের কার্যক্রম
আদালতে হাজির করার সময় আহমদজাই কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং নিজের পক্ষে সাফাই গাইতে একজন অনুবাদক চেয়েছেন। মামলার বিচার প্রক্রিয়া ১৮ মাস পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তার স্ত্রী অ্যালাইনা হল পুলিশকে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের দিন রাতে স্বামীকে বাসায় না পেয়ে তিনি তার ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে এলিজাবেথের আবাসস্থলের কাছাকাছি অবস্থান শনাক্ত করেছিলেন, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
স্মরণ
এলিজাবেথ রস এডিনবরার ডেসটিনি চার্চের সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে চার্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অসহায় মানুষের প্রতি এলিজাবেথের অদম্য ভালোবাসা ও সেবার মানসিকতা সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।










