স্পেনের মাদ্রিদে সেউতা শহরের সমর্থনে জার্সি পরাকে কেন্দ্র করে স্প্যানিশ ফুটবল বিশ্বে বড় ধরনের বিতর্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং ইব্রাহিমা কোনাতে এলচের বিপক্ষে ম্যাচে সেউতার সংহতি বার্তা সম্বলিত জার্সি গুটিয়ে রাখায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মরক্কো থেকে আসা বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর আগমনে সেউতায় মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার পর দেশটির ব্যবসায়িক সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ভ্যালেন্সিয়ানা দে এম্প্রেসারিওস’ (AVE) এই সংহতি প্রচারণার ডাক দিয়েছিল।
জুলাই মাসের শেষদিকে মাত্র দুই দিনে রেকর্ড ৭২ হাজার অভিবাসী মরক্কো থেকে স্পেনের সেউতা সীমান্তে প্রবেশ করে। এতে স্থানীয় অবকাঠামো ভেঙে পড়ে এবং মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়। মানবাধিকার সংস্থা কামিনান্দো ফ্রন্টেরাসের তথ্যমতে, এই ঘটনায় সীমান্তে ১৪১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
খেলোয়াড়দের এই জার্সি পরা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এমবাপ্পে জানিয়েছেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কষ্টকে বড় করে দেখতে চান না, বরং অভিবাসীসহ সব মানুষের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখেই তার এই অবস্থান। এদিকে, বার্সেলোনা দল Levante-এর বিপক্ষে ম্যাচের আগে এই জার্সি পরা থেকে বিরত ছিল। লা লিগার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের তেবাস এই ঘটনার সমালোচনা করলেও ফুটবলারদের ইউনিয়ন AFE জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের আগে এসব ইস্যু সম্পর্কে স্পষ্টভাবে অবগত করা প্রয়োজন।
রবিবার মাদ্রিদ ডার্বিতে এই উত্তাপ স্পষ্ট দেখা গেছে। মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ‘সেউতা স্পেনের অংশ’ লেখা ব্যানার প্রদর্শিত হয় এবং খেলোয়াড়দের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন সমর্থকরা। সমর্থক হোর্হে গার্সিয়া বলেন, খেলোয়াড়দের আচরণ ছিল স্পেনের প্রতি অসম্মানজনক।
এডি সেউতা ফুটবল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট লুহাই হামিদো জানিয়েছেন, এই সংকট ক্লাবের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছে। তবে তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের ওপর দায় চাপানো ঠিক নয়। তিনি বলেন, অভিবাসীদের দোষারোপ করা উচিত নয়, কারণ তারা নিজেরাও পরিস্থিতির শিকার। সেউতার স্থানীয় অলিগলিতে শিশুরা ফুটবলের মাধ্যমেই টিকে থাকার সাহস খুঁজছে, যেখানে অনেক শিশুর গায়েই প্রিয় ফুটবলারদের জার্সি দেখা যায়।










