গিনির প্রেসিডেন্ট মামাদি ডুমবুয়া সামরিক বাহিনীর ১৭৩ জন সদস্যকে কর্মস্থল ত্যাগের (ডেজারশন) দায়ে বরখাস্ত করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রাষ্ট্রপতির মুখপাত্র জেনারেল আমারা কামারার পাঠ করা এক ডিক্রির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এই তালিকায় ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট ডুমবুয়াকে সহায়তা করা কর্নেল মিশেল লামাহও রয়েছেন। সামরিক বাহিনীতে নিজের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে এবং নেতৃত্ব নিয়ে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখা থেকে এই সদস্যদের বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তারা কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে ডিক্রিতে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। বরখাস্ত হওয়া কর্নেল মিশেল লামাহ স্পেশাল ফোর্সেস গ্রুপের (জিএফএস) সদস্য ছিলেন, যা একসময় প্রেসিডেন্ট ডুমবুয়া নিজে নেতৃত্ব দিতেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে গিনির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা চালিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলফা কন্ডেকে ক্ষমতাচ্যুত করার সময় কর্নেল লামাহকে বন্দি কন্ডেকে বহনকারী গাড়িতে দেখা গিয়েছিল।
২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর প্রেসিডেন্ট ডুমবুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি নির্বাচনে দাঁড়াবেন না এবং বেসামরিক শাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। তবে পরবর্তীতে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেন। নির্বাচনের ফলাফলে তিনি ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ক্ষমতা দখলের পর থেকেই পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে নাগরিক স্বাধীনতায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। দেশটিতে সংবাদমাধ্যম বন্ধ, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া অনেক বিরোধী নেতা ও কর্মীকে হয় গ্রেপ্তার অথবা নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। বিরোধী দল আরপিজি আর্ক এন সিয়েল এবং ইউএফডিজিকে গত বছরের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।










