কসোভোর প্রিস্টিনায় দীর্ঘ তিন মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে আলবিন কুর্তির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠন করা হয়েছে। পার্লামেন্টের স্পিকার আলবুলেনা হাক্সিউ জানিয়েছেন, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নতুন সরকারের পক্ষে ৬২ জন আইনপ্রণেতা ভোট দিয়েছেন। এই সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশটিতে চলমান অস্থিরতা সাময়িকভাবে কাটলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে নতুন সাংবিধানিক সংকট তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ
কসোভোর বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মূল কারণ হলো নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আলবিন কুর্তির দল ভেতভেন্দোসিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলেও প্রেসিডেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যদি পার্লামেন্ট নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যর্থ হয়, তবে দুই বছরের মধ্যে চতুর্থবারের মতো দেশটিতে আগাম নির্বাচন দিতে হবে। যদিও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক সংকট ও বিরোধ
আগস্টের শেষদিকে কুর্তি বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক লিগ অফ কসোভোর (এলডিকে) সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছান। চুক্তির অংশ হিসেবে আইন বিশেষজ্ঞ বেকিম সেজদিউকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরের দিনই এলডিকের ছয়জন আইনপ্রণেতা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। মূলত সার্বিয়ার প্রতি কুর্তির কঠোর অবস্থান নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, কুর্তির একক সিদ্ধান্তের কারণে কসোভোর ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা মিত্ররা ক্ষুব্ধ, যা সরকারের কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
দীর্ঘ এই রাজনৈতিক অচলবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির অর্থনীতিতে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে কসোভোর জন্য বরাদ্দকৃত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উত্তর কসোভোতে উত্তজনা প্রশমনে কুর্তিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।









