ইউক্রেনে প্রতিদিন নতুন প্রযুক্তির দ্রুতগতির জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলছে রাশিয়া। বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, আগস্ট মাসজুড়ে প্রতিদিন এসব ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভের আকাশে এই নতুন মাত্রার সামরিক হুমকিকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন।
ইউক্রেনের সামরিক তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে যেখানে জেটচালিত ড্রোনের আক্রমণের সংখ্যা ছিল ৩৫০টি, আগস্ট মাসে তা বেড়ে ২৮০০টিতে পৌঁছেছে। লন্ডনের কিংস কলেজের সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ড. মারিনা মিরনের মতে, পুরনো ধীরগতির ড্রোনগুলোর তুলনায় এগুলো অনেক বেশি দ্রুতগামী, ফলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এগুলোকে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এই ড্রোনগুলো ঘণ্টায় ৩০০ মাইলের বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম, যা কিয়েভের বিদ্যমান ইন্টারসেপ্টরগুলোর ক্ষমতার বাইরে।
গত ১ সেপ্টেম্বর এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে কিয়েভের একটি ডিপোতে কাজ করা ছয়জন রেলকর্মী রয়েছেন। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, এই ড্রোনে ব্যবহৃত টার্বোজেট ইঞ্জিনের কিছু অংশ চীন থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউক্রেনের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভেনি খামারা চারটি কোম্পানিকে নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন, যা এই নতুন মডেলের ড্রোনগুলোকে ভূপাতিত করতে সক্ষম। তবে যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার এই কৌশলী পরিবর্তন ও বেলিস্টিক মিসাইলের সাথে সমন্বিত হামলার ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার স্বল্পতাও ইউক্রেনের জন্য এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাশিয়ার ওরিওল অঞ্চলের সিমবুলোভা এলাকায় নতুন ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে, যেখান থেকে নিয়মিত এই ড্রোনগুলো উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে প্রতিটি আক্রমণে ড্রোন ব্যবহারের হার প্রায় ১৫ গুণ বেড়েছে বলে ইউক্রেনের তথ্যসূত্রে জানা গেছে।









