ইরানের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই হামলাকে ‘বর্বর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বুধবার ভোরে চালানো এই হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত ৬৩ জন আহত হয়েছেন, যা আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হোসেন কেরমানপুর জানিয়েছেন, হামলায় নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। হামলার ফলে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ভবনের দেয়াল ও জানালা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এবং চারদিকে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আহতদের নিকটবর্তী মিনাব শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শাহিদিয়ান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য
ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় বেঁচে যাওয়া এক শিশু জানিয়েছে, অনুষ্ঠানের স্থানে পৌঁছানোর পরপরই তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পাথর, ইট ও সিমেন্টের আঘাতে সে নিজে আহত হয় এবং সেখানে উপস্থিত সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের অনেকেই গুরুতর আহত হন।
প্রেক্ষাপট
এই হামলার ঘটনার সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। হরমোজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার চেষ্টার জবাবে রাডার সিস্টেম, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে এই আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্টকম। ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে চুপ থাকা বা একে সমর্থন করা নিরপেক্ষতা নয়। ইরান এসব কর্মকাণ্ডের কঠোর জবাব দেবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। কুহেস্তাক ছাড়াও কোনারাক, বন্দর আব্বাস, জাস্ক, আসালুয়েহ এবং আহভাজসহ বিভিন্ন উপকূলীয় শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।










