ইউক্রেন ও মলদোভার সীমান্তবর্তী স্টোরোকোজাচে ক্রসিংয়ে রুশ ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই হামলার পর সীমান্তবর্তী ক্রসিংটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের ওডেসা আঞ্চলিক প্রধান ওলেহ কিপার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন মলদোভার নাগরিক রয়েছেন। যুদ্ধের বিস্তৃতি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের অন্যান্য শহর ও রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা
সীমান্তবর্তী এই হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি নয়তলা ভবনে ড্রোন আঘাত হানলে এক নারী নিহত ও ১৪ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে। এছাড়া সুমি শহরে একটি শপিং সেন্টারে ড্রোন হামলায় তিনজনের মৃত্যু ও ২০ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর শহর নোভোরোসিস্কে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় শিশুসহ চারজন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। সেখানে আবাসিক ভবন, একটি গির্জা ও একটি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া রাশিয়ার নোভাই উরেঙ্গয় শহরের একটি শিল্প স্থাপনাতেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তেল শোধনাগারে হামলা
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইউক্রেন সীমান্ত থেকে তিন হাজার কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার নোভাউরেঙ্গয়েস্কি জেডপিকেটি নামক একটি বড় তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের। পাল্টা জবাবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা রাতে ৫৯৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি
মলদোভার প্রধানমন্ত্রী ভ্যাসিল তোফান জানিয়েছেন, আগস্ট মাসেই তাদের ভূখণ্ডে ১৭টি ড্রোন আঘাত হেনেছে, যা আগের বছরের মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি। যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সম্প্রতি ফোনালাপ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে, তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এখনও আলোচনার সময় বা স্থান নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।









