সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক ব্লকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে, যা দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনের পথকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। নির্বাচনের পর পাবলিক ব্রডকাস্টার এসভিটি জানিয়েছে, ৫০ শতাংশ ভোট গণনার পর দুই ব্লকের ব্যবধান মাত্র ২০ হাজার ভোটে নেমে এসেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন এবং সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন—উভয়েই ক্ষমতা ধরে রাখা বা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন।
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ
সুইডেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী ব্লক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের চেয়ে মাত্র এক আসনের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ক্রিস্টারসনের জোটকে সমর্থন দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী দল ‘সুইডেন ডেমোক্র্যাটস’ (এসডি), যাদের নব্য-নাৎসি সংযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্রিস্টারসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার সরকার ক্ষমতায় থাকলে তিনি এসডিকে মন্ত্রীসভার পদ দেবেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সুইডেনের রাজনীতিতে চারটি দল ডানপন্থী এবং চারটি দল বামপন্থী ব্লকের অধীনে কাজ করে, যে কারণে দেশটিতে জোট বা সংখ্যালঘু সরকার গঠন সাধারণ ঘটনা। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই সুইডেনের রাজনীতিতে বড় শক্তি হিসেবে টিকে আছে। অন্যদিকে, ১৯৮০-র দশকে নাৎসি সহানুভূতিশীলদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এসডি দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকলেও ২০২২ সালে সহিংস অপরাধ ও অভিবাসন ইস্যু সামনে এনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়।
প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া
রবিবার রাতে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান ফলাফল যদি শেষ পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকে, তবে সুইডেন একটি নতুন সরকার পাবে। এর আগে ভোট প্রদানের পর তিনি ভোটারদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন রেখেছিলেন—সুইডেন কি এমন সরকার চায় যা কট্টর ডানপন্থী দল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে, নাকি তার নেতৃত্বে একটি নতুন সহযোগিতামূলক সরকার গঠন করবে।
অন্যদিকে, নিজ এলাকা স্ট্র্যাংনাসে ভোট দেওয়ার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, তিনি তার জোটের কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী এবং ভোটারদের মধ্যে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করেছেন। নির্বাচনের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল জাতীয় নিরাপত্তা, গ্যাং সহিংসতা এবং কল্যাণমূলক খাতে সরকারি ব্যয়।










