ভারতের বিভিন্ন স্থানে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট বা সিএসএএম (CSAM) সম্বলিত বিজ্ঞাপন প্রচার অব্যাহত রেখেছে মেটা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট (টিটিপি) তাদের নতুন প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এই ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ ভারতের সরকার গত দুই মাস আগেই ইনস্টাগ্রামকে এই ধরনের সব বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে টিটিপি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে মোট ৩৩২টি এমন বিজ্ঞাপন শনাক্ত করেছে, যার বেশিরভাগই চলতি বছরের আগস্ট মাসে চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪টি বিজ্ঞাপন ভারতে প্রচারিত হয়েছে, যার মধ্যে ৭৮টি বিজ্ঞাপন সরকারি নির্দেশনার পরেও চালানো হয়েছে। টিটিপির দাবি, তাদের অনুসন্ধানের কথা জানানোর পরেও মেটার প্ল্যাটফর্মে আরও ডজনখানেক এমন বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে।
এই বিজ্ঞাপনগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে শিশুদের ছবি বিকৃত করে যৌন উত্তেজক দৃশ্যে রূপান্তর করা হয়েছে। টিটিপি জানায়, এমন একটি বিজ্ঞাপনে এক কিশোরীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে যা এআইয়ের মাধ্যমে বিকৃত করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনটি আগস্ট মাসে দুই সপ্তাহে ৫০টিরও বেশি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার করা হয়েছে।
মেটার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা বাস্তব কোনো ধরনের শিশু শোষণের বিষয় সহ্য করে না। তাদের দাবি, অপরাধীরা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করছে, যার ফলে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হচ্ছে। মেটা জানিয়েছে, তারা এই ধরনের কনটেন্ট শনাক্ত করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি)-এ তা রিপোর্ট করে থাকে।
তবে এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীরা। জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন-এর প্রতিষ্ঠাতা ভুবন রিভু ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, মেটা ভারতের শিশু সুরক্ষা আইন অমান্য করছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রিপোর্ট করছে না।
তেলেঙ্গানার সাইবার সিকিউরিটি ব্যুরোর পরিচালক শিখা গোয়েল জানান, অপরাধীদের এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে সহজে সরে যাওয়ার প্রবণতা এই সমস্যা মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন এই বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা ভাবছে।










