ফিলিপাইনের কুইজন সিটিতে প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার আদালত তাঁর আইনজীবীদের করা পরোয়ানা স্থগিতের আবেদন নাকচ করে এই আদেশ দেয়। এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সারা দুতের্তের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে।
অভিযোগের প্রেক্ষাপট
অভিযোগ অনুযায়ী, সারা দুতের্তে প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র, তাঁর স্ত্রী এবং প্রতিনিধি পরিষদের তৎকালীন স্পিকার মার্টিন রোমুয়ালদেজকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এর আগে গত মাসে তাঁর বিরুদ্ধে ‘গুরুতর হুমকি’ দেওয়ার তিনটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়। প্রতিটি অভিযোগের বিপরীতে ১,৯০০ ডলার জামানত ধার্য করেছে আদালত।
রাজনৈতিক সংকট
সারা দুতের্তে বর্তমানে অভিশংসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। যদি এই অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাঁকে পদ থেকে অপসারণ করা হতে পারে, যা ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার স্বপ্ন শেষ করে দিতে পারে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে দুতের্তে দাবি করেছিলেন, তিনি যদি নিজে নিহত হন, তবে প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে তিনি এটি নিজের নিরাপত্তার খাতিরে বলেছিলেন বলে দাবি করেছেন। তাঁর আইনজীবী পল লরেন্স লিম জানিয়েছেন, সারা দুতের্তে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর মোকাবেলা করবেন।
প্রতিরক্ষা ও আইনি অবস্থা
বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, অভিশংসন বিচার চলাকালীন ফৌজদারি মামলা চলতে বাধা নেই। তবে সারা দুতের্তেকে সহসা কারাবন্দি করা হবে বলে মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। আশা করা হচ্ছে, তিনি দ্রুত জামানত প্রদান করবেন। এই ফৌজদারি মামলায় সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, তবে তাঁর জন্য মূল হুমকি হলো চলমান রাজনৈতিক অভিশংসন প্রক্রিয়া।
সারা দুতের্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের মেয়ে। ২০২২ সালের নির্বাচনে মার্কোস জুনিয়রের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে তিনি ক্ষমতায় এলেও বর্তমানে তাদের মধ্যে চরম বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান।








