ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কার্যক্রম যুদ্ধাপরাধের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ। এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রাষ্ট্র বা কোম্পানিগুলো প্রমাণ নষ্টের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধের অংশীদার হতে পারে বলে সোমবার তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) আদেশে ইসরায়েলকে জেনোসাইড কনভেনশনের আওতায় থাকা অপরাধের প্রমাণ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই আদেশের দুই বছর পার হলেও ধ্বংসস্তূপ অপসারণের মাধ্যমে প্রমাণ মুছে ফেলার প্রচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ বলেন, বিচার পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ মুছে ফেলে গাজা পুনর্গঠনের শর্ত জুড়ে দেওয়া অগ্রহণযোগ্য।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা হাজারো মরদেহ
গত আগস্ট মাসে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজার বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলার একটি বড় অভিযান চালায়। এর মধ্যে কবরস্থান এবং যেখানে মরদেহ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, এমন স্থানগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অপসারণ প্রক্রিয়া গাজায় ডেমোগ্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং গণহত্যার আলামত মুছে ফেলার একটি অপচেষ্টা হতে পারে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। উদ্ধার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি ও ফরেনসিক সরঞ্জামের প্রবেশে ইসরায়েল বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স সার্ভিসের প্রধান রায়েদ আল-দাহসান আল জাজিরাকে জানান, উপযুক্ত সরঞ্জাম থাকলে ৯০ দিনের মধ্যে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।
সম্প্রতি গাজার উত্তরাঞ্চলে উদ্ধারকৃত প্রায় ১০০ জনের মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬০ জন শিশু ছিল।










