কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অননুমোদিত ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার দায়ে বিদেশিদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অভিযানের ঘোষণা দেওয়ায় বুরুন্ডির শত শত নাগরিক দেশটি ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বুরুন্ডির নাগরিকদের দেশে ফেরার সুবিধার্থে নাইরোবিতে অবস্থিত দেশটির দূতাবাস বিনামূল্যে জরুরি ভ্রমণের নথি প্রদান করছে। এই অভিযানের ফলে নিজ দেশে ফেরার জন্য বুরুন্ডির অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক তোড়জোড় দেখা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর নির্দেশ
কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো ঘোষণা দিয়েছেন যে, যারা পর্যটক বা বিনিয়োগকারী হিসেবে ভিসা নিয়ে এসে অনুমতি ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসা চালাচ্ছেন, তাদের কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তার মতে, বিদেশিদের ক্ষুদ্র ব্যবসা বা হকারি করার বদলে বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা উচিত। এই ঘোষণার পর অনেক বিদেশি নাগরিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনেকে তাদের প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় প্রায় ১৬ হাজার বুরুন্ডির শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। এই অভিযানের ফলে ঠিক কতজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তা স্পষ্ট নয়। বুরুন্ডির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডুয়ার্ড বিজামানা এই ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, কেনিয়া সরকারের উচিত সেখানে বসবাসরত বুরুন্ডির নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে আঞ্চলিক সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে।
পরবর্তী পরিস্থিতি
কেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব বিদেশির বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ও লাইসেন্স রয়েছে, তারা আইন মেনে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে এই আশ্বাসেও অনেক অভিবাসীর দুশ্চিন্তা কমেনি। বুরুন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ইন কেনিয়ার প্রধান অ্যালেক্সিস নটিনানিরওয়া এই সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ পুরো পূর্ব আফ্রিকা অঞ্চলের পারস্পরিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ কেনিয়ার নাগরিকরাও প্রতিবেশী দেশগুলোতে একই ধরনের ব্যবসা করছেন।









