ইরানের হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির (সিএনএএস) অ্যাডজাঙ্কট সিনিয়র ফেলো র্যাচেল জিম্বা জানিয়েছেন, দেশ দুটির মধ্যে চলমান এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়।
সোমবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা গত পাঁচ দিনে ৯ শতাংশ এবং গত এক মাসে ১৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ৯২.২৭ ডলারে পৌঁছেছে। গত শনিবার হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালায়। জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তিনটি ইরানি ট্যাংকার এবং তিনটি মার্কিন সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলার দাবি করেছে। এছাড়াও সৌদি আরবের জিজান শোধনাগারে হামলার ঘটনা জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মার্কিন ভোক্তারা। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম বেড়ে ৪.১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোয় তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থনীতির এই নাজুক পরিস্থিতি মার্কিন ভোটারদের মধ্যে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে এই পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় চীন নিজস্ব কৌশল গ্রহণ করেছে। দেশটির অর্থনীতিবিদ জন গং জানান, চীন তাদের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ (এসপিআর) ব্যবহার শুরু করেছে এবং রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে বিকল্প উৎস নিশ্চিত করেছে। এছাড়া চীন দ্রুত বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে, যা তাদের তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রিত গাড়ির অর্ধেকেরও বেশি বৈদ্যুতিক।









