বাংলাদেশের ঢাকার বঙ্গভবনে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তৈরি পোশাক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের নানা সুপারিশ তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রতিনিধিদল। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এই খাতের সার্বিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ নেতারা বর্তমান সরকারের শিল্পবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণ বিলম্বিতকরণ এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা চালুর জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন সুবিধাকে তারা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
পোশাক খাতের চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তাবনা
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি তৈরি পোশাক খাতের প্রধান সংকটগুলো রাষ্ট্রপতির সামনে উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো তীব্র জ্বালানি সংকট, যার ফলে কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেক কমে এসেছে। এছাড়া জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ ব্যাংক সুদের হার এবং মজুরি সমন্বয়ের ফলে গত তিন বছরে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানি হ্রাস এবং গত তিন বছরে ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সংকট উত্তরণে বিজিএমইএ নেতারা রাষ্ট্রপতির কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে:
জ্বালানি নিরাপত্তা: গ্যাস সংকট সমাধানে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান।
অবকাঠামো উন্নয়ন: ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিমানবন্দরের কার্গো শেড সম্প্রসারণ।
ব্যাংকিং সহায়তা: ঋণের সুদের হার কমানো এবং পোশাক খাতের জন্য বিশেষায়িত পোস্ট-শিপমেন্ট ফাইন্যান্সিং স্কিম চালু করা।
বাণিজ্য নিরাপত্তা: এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে ইইউসহ প্রধান দেশগুলোর সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি।
এছাড়া শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হাসপাতাল নির্মাণ এবং ঝুট ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতির আশ্বাস
বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শুনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তৈরি পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সাময়িক প্রতিকূলতা কাটিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। শিল্পের টেকসই বিকাশ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।









