Home / আন্তর্জাতিক / নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, জাতিসংঘের উদ্বেগ

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, জাতিসংঘের উদ্বেগ

নেপালের নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলায় হিমালয়ের হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সরকার ও জাতিসংঘ উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধান, স্বজন হারানোদের সহায়তা প্রদান এবং বিচ্ছিন্ন হওয়া পরিবারগুলোকে পুনর্মিলিত করা এখন প্রধান অগ্রাধিকার। এক সপ্তাহ আগে ঘটা এই বিপর্যয়ে নেপালে অন্তত ১২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪২০০ জনের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। একই ঘটনায় তিব্বত সীমান্তে ২১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

উদ্ধার অভিযানের বর্তমান অবস্থা
নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা পড়া শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে নিরলস কাজ চলছে। দেশটিতে প্রায় ১২ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ভারত, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ আরও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম অঞ্চলে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। তবে ৪০টির বেশি সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ত্রাণ পৌঁছানো এবং দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবিক সংকট ও আশ্রয়স্থল
নেপালে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে স্কুলসহ ২৭টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্ষা মৌসুমে জনাকীর্ণ এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দূষিত পানি ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবে রোগব্যাধি ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে। নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও মানসিক কাউন্সেলিং প্রদানের ওপর জোর দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি এলাকায় তিন মাসের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং জাতিসংঘ চার মাসের একটি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও সতর্কবার্তা
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, হিমবাহ ধসের ঘটনাটি আগে থেকে পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন ছিল। তবে এশিয়ান মাউন্টেন একাডেমিক অ্যালায়েন্সসহ বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, হিমবাহের অস্থিরতা আগে থেকেই দৃশ্যমান ছিল এবং উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থা থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। প্রধানমন্ত্রী শাহ আরও বলেন, হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং এর দায়ভার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও নেওয়া উচিত।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *