যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গরম কফির চেয়ে ঠান্ডা পানীয়ের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়েছে, যা স্টাবার্কসের মতো চেইন শপগুলোর ব্যবসার ধরনে বড় পরিবর্তন এনেছে। বিবিসিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২১ বছর বয়সী এলাইন লিং জানান, তিনি স্টারবাকসে কফির জন্য যান না, বরং রিফ্রেশার বা ঠান্ডা পানীয়ের জন্য সেখানে যান। তার মতে, স্টারবাকসের কফি অনেক বেশি মিষ্টি। বর্তমান বাজারে তরুণ প্রজন্মের চাহিদার এই পরিবর্তনের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ স্টারবাকসের মোট বিক্রির তিন-চতুর্থাংশ এখন ঠান্ডা পানীয় থেকে আসছে।
জেন-জি বা ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ভোক্তারা প্রথাগত কফির পরিবর্তে ঠান্ডা পানীয়কে বেছে নিচ্ছেন, যা তারা নিজেদের পছন্দমতো কাস্টমাইজ করতে পারেন। ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনালের গ্লোবাল ইনসাইট ম্যানেজার ট্রিস্টান হোভারের মতে, এই কাস্টমাইজেশন তরুণদের এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ বোধ দেয়। তারা তুলনামূলক দামি পানীয়ের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতেও দ্বিধা করে না, যদি সেই পানীয়টি দেখতে আকর্ষণীয় বা কার্যকর হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা কেবল একটি সাময়িক অভ্যাস নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন। ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক কেলি গোল্ডস্মিথের ভাষ্যমতে, ভোক্তারা এখন শুধু পানীয় নয়, বরং ব্র্যান্ডের ইমেজ বা স্ট্যাটাস কিনছেন। আইএইচএল গ্রুপের বিশ্লেষক জেরি শেলডন এটিকে আত্মপ্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবও এখানে বড় ভূমিকা পালন করছে। টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন রঙিন ও সাজানো পানীয়ের প্রচারণার কারণে তরুণ গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে। স্টারবাকসের ইউনিকর্ন ফ্র্যাপুচিনোর মতো পানীয়গুলো প্রচারের ফলে তাদের বিক্রয়কেন্দ্রে গ্রাহকের আনাগোনা ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল।
ডানকিন ডোনাটস, ম্যাকডোনাল্ডস এবং টাকো বেলের মতো চেইনগুলোও এই ট্রেন্ড ধরতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের তথ্যে দেখা যায়, এই প্রবণতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২৫ বছরের নিচের গ্রাহকরা গরমের চেয়ে ঠান্ডা পানীয় কেনাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব গুয়েলফের মার্কেটিং অধ্যাপক তীর্থ ধর মনে করেন, এই ঠান্ডা পানীয় স্টারবাকসের মুনাফা বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানীয়ের ওপর বিভিন্ন ফোম, ফ্লেভার ও প্রোটিনের সংমিশ্রণ চেইনটির ব্যবসার মোড় ঘুরিয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।









