যুক্তরাজ্যের লন্ডনে হাউজ অব কমন্সে আয়োজিত সাপ্তাহিক ‘প্রাইম মিনিস্টার’স কোয়েশ্চেনস’-এ অংশ নিয়ে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্যদের কঠোর জেরার মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ছয় সপ্তাহ পর তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং জনগণের মধ্যে পুনরায় আশা সঞ্চারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
অর্থনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েও যুক্তরাজ্যের সামরিক বাধ্যবাধকতা পূরণের বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছেন বার্নহাম। তিনি বলেন, সরকার তাদের প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা পুরোপুরি অর্থায়ন করবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সংসদে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনচ বর্তমান সরকারের বড় ধরনের ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। উত্তরে বার্নহাম আগের সরকারের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনাকে বাজারের অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেন। তিনি জানান, তার প্রশাসন কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে কাজ করছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জার্মানির লিপজিগ-হালে বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার চেষ্টার উল্লেখ করেন। এই ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা হয়েছে জানিয়ে তিনি জার্মানি ও ইউক্রেনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশে ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের আহ্বান জানান।
দেশের প্রতিটি প্রান্তে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একটি দশ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছেন বার্নহাম। তিনি জানিয়েছেন, জ্বালানি ও পানির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবার ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বছরের শেষ নাগাদ এই রূপরেখা প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে ব্রিটেনে জ্বালানির উচ্চমূল্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
ডাউনিং স্ট্রিটে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার সরকার আগামী মাস থেকে গৃহস্থালি বিদ্যুতের বিলে কর হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া পানশালা ও আতিথেয়তা খাতের ব্যবসায়ীদের করের বোঝা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমান অবস্থায় না থাকা ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম।









