যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দেশটির শেয়ার বাজার ইতিহাসের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশা ছাড়ানো আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এখনো চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও খুব শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছেন তারা। এই প্রণালীটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার বাজারের প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১.৮ শতাংশ বেড়ে প্রথমবারের মতো ৭,৭০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। এর আগে ২ জুন ৭,৬২০.৯০ পয়েন্টের রেকর্ড ছিল। এছাড়া ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচকটিও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রেকর্ড গড়ে ৫৪,০৮৫.৮৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ডাটা অ্যানালিটিক্স কোম্পানি পালান্টিয়ার টেকনোলজিসের শেয়ারের দাম ২৯.৫ শতাংশ বৃদ্ধি এই বাজারে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এশিয়ার বাজারেও এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বুধবার সকালে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৪.৬ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৯.১১ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম।
ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, মঙ্গল বা বুধবারের মধ্যেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ পথ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করলেও গত রবিবার মাত্র ৯টি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ইরানের হুমকি সত্ত্বেও তাদের সহায়তায় গত তিন মাসে এক হাজারের বেশি জাহাজ নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে এবং জলপথটি বর্তমানে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।









