ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বন্দর ও বিমানবন্দরগুলোতে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য খুব সামান্যই প্রকাশ করা হয়েছে। তবে হুথিদের একজন মিডিয়া কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে সৌদি আরবের কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই প্রণালীটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রিয়াদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সৌদি জাহাজের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালীর গুরুত্ব
ইয়েমেন ও আফ্রিকার শৃঙ্গের মধ্যবর্তী ৩২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই জলপথটি এডেন উপসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে। সুয়েজ খালের মাধ্যমে এই পথ লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত করে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় সৌদি আরব তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির বড় একটি অংশ লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে পরিচালনা করছে।
পটভূমি
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে দেশটিতে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট সরকার পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান শুরু করে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ২ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
চলমান উত্তেজনার কারণ
গত সপ্তাহে হুথিরা সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তাদের দাবি, এর আগে সানার বিমানবন্দরে সৌদি জোটের বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের দাবি, তারা অনুমোদিত নয় এমন একটি ইরানি বিমানকে সানায় অবতরণ ঠেকাতে ওই হামলা চালিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
মার্কিন ভিত্তিক ঝুঁকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্টের মোহাম্মদ আলবাশা মনে করেন, হুথিরা সৌদিগামী জাহাজগুলোতে সরাসরি হামলা চালাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। কোনো জাহাজ আক্রান্ত না হলেও শুধুমাত্র এই ঘোষণার কারণে সৌদি বন্দরগুলোতে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।










