Home / বিশ্ব / নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা চলবে

নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা চলবে

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারকরা। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এই মামলার এখতিয়ার নিয়ে যে আপত্তি তোলা হয়েছিল, গতকাল তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন মামলাটি পূর্ণাঙ্গভাবে শুনানির পথ প্রশস্ত হলো।

২০২১ সালে ক্ষমতা দখল করা মিয়ানমারের বর্তমান সামরিক জান্তা দাবি করেছিল যে, গাম্বিয়ার এই মামলা করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তবে আদালতের প্রিজাইডিং বিচারক জোয়ান ডনোগু জানান, ১৩ জন বিচারকের প্যানেল সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী প্রতিটি দেশেরই গণহত্যা প্রতিরোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই এই মামলার বিচারকাজ পরিচালনার পূর্ণ এখতিয়ার আদালতের আছে।

বিচারক আরও বলেন, জেনোসাইড কনভেনশনের পক্ষ হিসেবে গাম্বিয়ার এই মামলা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এখন আদালত মামলার মূল মেরিট বা বিষয়বস্তু নিয়ে শুনানি শুরু করবে, যা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া হতে পারে।

আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিচার ও জবাবদিহিতা রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে নিজ দেশে সসম্মানে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রেও একটি আস্থা তৈরির মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

গাম্বিয়া ওআইসিভুক্ত ৫৭টি দেশের সমর্থনে এই মামলাটি পরিচালনা করছে। এর আগে জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল যে, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো অভিযানে সাত লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং সেই অভিযানে গণহত্যার উপাদান ছিল।

আদালতের দেওয়া রায় বাধ্যতামূলক হলেও তা কার্যকর করার সরাসরি কোনো ক্ষমতা আইসিজের নেই। ২০২০ সালের এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে আদালত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা থেকে সুরক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এরপরও মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন কমেনি এবং তাদের নাগরিকত্ব ও চলাফেরার স্বাধীনতা এখনো কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *