Home / আন্তর্জাতিক / ৯/১১ হামলার ২৫ বছর: যুক্তরাষ্ট্রে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন

৯/১১ হামলার ২৫ বছর: যুক্তরাষ্ট্রে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক, ভার্জিনিয়া এবং পেনসিলভানিয়ায় ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকীতে নিহত প্রায় ৩ হাজার মানুষের স্মরণে বিশেষ স্মরণসভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই হামলার শিকার ব্যক্তিদের সাহসিকতা ও জাতীয় ঐক্যের কথা স্মরণ করেন। এই বার্ষিকী পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এটি ২০০১ সালের সেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির ক্ষত এবং মার্কিন ইতিহাসে শুরু হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ দীর্ঘ প্রভাবকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

নিউ ইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়, যেখানে একসময় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার দাঁড়িয়ে ছিল। প্রতি বছরের মতো এবারও সেখানে নিহতদের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের নাম পাঠ করেন। টাওয়ারের পাদদেশে স্থাপিত দুটি রিফ্লেক্টিং পুলের পাশে দাঁড়িয়ে তারা শোক প্রকাশ করেন।

ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৭৭ বিধ্বস্ত হয়ে ১৮৪ জন নিহত হয়েছিলেন। ট্রাম্প বলেন, হামলার পরবর্তী কঠিন দিনগুলোতে জাতির যে আত্মিক শক্তি দেখা গিয়েছিল, তা আজও আমাদের টিকে থাকার প্রেরণা দেয়।

পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৯৩-এর নিহত যাত্রী ও ক্রুদের স্মরণে বিশেষ আয়োজন করা হয়। ধারণা করা হয়, জঙ্গিরা বিমানটি ওয়াশিংটন ডিসির কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে চেয়েছিল, কিন্তু বিমানের ভেতরেই যাত্রীরা তাদের প্রতিহত করেন। এতে বিমানটি একটি ফাঁকা মাঠে বিধ্বস্ত হয় এবং ৪০ জন যাত্রী ও ক্রু প্রাণ হারান। পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো নিহতদের বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজ্যের পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেন।

হামলার ২৫ বছর পার হলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনো বিদ্যমান। নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি সরকারি নথি প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেখা গেছে টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর বিষাক্ত ধূলিকণার ঝুঁকিতে পড়েছিলেন প্রায় ৪ লাখ মানুষ। ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত আড়াই দশকে হাজার হাজার মানুষ ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *