বাংলাদেশের ঢাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে অর্ধেক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মহলের অনাগ্রহের কারণে এই বিশেষ আর্থিক সুবিধাটি বহাল রাখা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের ব্যয় সংকোচন ও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। করদাতাদের অর্থ এভাবে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পদে ভর্তুকি হিসেবে ব্যয় করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
৯ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা অর্ধেকে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছিল। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনাগ্রহ এবং আপত্তির মুখে অর্থ বিভাগ সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। যদিও সরকার গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকার সুদমুক্ত ঋণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা না কমানোর বিষয়টি সরকারি নীতিনির্ধারণে দ্বৈততাকে সামনে এনেছে।
২০১১ সালে শুরু হওয়া এই সুবিধার আওতায় বর্তমানে উপসচিব থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ এবং মাসিক ৫০ হাজার টাকা রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা পান। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি এক ধরনের পরোক্ষ ভর্তুকি, যা সাধারণ মানুষের করের টাকায় দেওয়া হয়। সীমিত আয়ের দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগের পরিবর্তে এভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যয় করা সুযোগ ব্যয়ের ধারণাকে ক্ষুণ্ণ করে।
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জাপানের মতো দেশগুলোতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার পরিবর্তে সরকারি পুল কার বা প্রকৃত ভ্রমণ ব্যয়ের ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় হয় না। বাংলাদেশেও এই ধরনের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেছেন যে, কর্মকর্তাদের কাজের প্রয়োজনে দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের স্বার্থেই জরুরি। তবে সমালোচকদের মতে, সব কর্মকর্তাকে একই হারে ভাতা দেওয়া বৈষম্যমূলক, কারণ সবার ব্যবহারের মাত্রা সমান নয়। সীমিত সম্পদের দেশে প্রতিটি সরকারি ব্যয়ের পেছনে অর্থনৈতিক ন্যায্যতা ও জনস্বার্থ থাকা অত্যাবশ্যক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।










