তিউনিসিয়ার তিউনিসে আয়োজিত ‘আফ্রিকা শিল্ড ২০২৬’ কর্মশালায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা রাসায়নিক, জৈবিক, রেডিওলজিক্যাল এবং পারমাণবিক (সিবিআরএন) নিরাপত্তা জোরদারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এই কর্মশালাটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন মহাদেশটির অর্থনীতি ও শিল্প খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা এই ধরনের সংবেদনশীল উপকরণের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলো এখন স্বাস্থ্যসেবা, শিল্পায়ন, গবেষণা এবং খনি শিল্পে প্রচুর পরিমাণে সংবেদনশীল উপকরণ ব্যবহার করছে। নিরাপত্তার খাতিরে এবং এগুলোর যেন কোনো অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।
নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোবারক আলিউ জানান, উন্নয়নের গতি ধরে রেখে কার্যকর তদারকি ও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই উপকরণগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
১৪ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। এর মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সামরিক বাহিনীর সদস্য, নীতিনির্ধারক এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ১৫৪০ বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত জাতীয় সমন্বয়কারীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ‘ডিফেন্স থ্রেট রিডাকশন এজেন্সি’ (ডিটিআরএ), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
আফ্রিকা শিল্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো বিপদ ঘটার পর প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বরং আগাম ঝুঁকি কমানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত নজরদারি, রপ্তানি পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় দেশগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
ডিটিআরএ-এর কর্মকর্তা মেজর ব্রিটানি ব্রাউন বলেন, এই কর্মসূচি আফ্রিকান দেশগুলোকে একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ করে দিচ্ছে এবং মহাদেশটিতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
আফ্রিকার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাই এখন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়ানোই হবে এই নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান।










