Home / আন্তর্জাতিক / রাশিয়ার হুমকি উপেক্ষা করে ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

রাশিয়ার হুমকি উপেক্ষা করে ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

ইউক্রেনের কিয়েভে সফররত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম রাশিয়ার ‘অশোভন হুমকি’ সত্ত্বেও ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম ইউক্রেন সফর। কিয়েভে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে বৈঠকের পর তিনি জানান, ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষায় ইউক্রেন বর্তমানে সম্মুখভাগে লড়াই করছে এবং ব্রিটেন সব সময় তাদের পাশে থাকবে।

সফরকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ‘কয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ বা ইচ্ছুক দেশগুলোর জোটের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করাকে এই জোটের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে ব্রিটেন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির স্কেলপ (Scalp) ক্ষেপণাস্ত্রের ব্লু-প্রিন্ট ইউক্রেনকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে দেশটি নিজস্ব কারখানায় এই দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র উৎপাদন করতে পারে।

রাশিয়ার সমালোচনা ও পাল্টা হুমকি

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই সহায়তার ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ অভিযোগ করেছেন যে, ব্রিটেন এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে এবং আগুনে ঘি ঢালছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। এর জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, এই যুদ্ধের সূত্রপাত আসলে কারা করেছে?

সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা

ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বার্নহাম ইউক্রেনীয় সৈন্যদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য সবসময় ইউক্রেনের প্রয়োজনে পাশে থাকবে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো সামরিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।

ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি

সম্প্রতি ইউক্রেনের শপিং সেন্টারে রুশ হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে ইউক্রেন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভর করছে, যার মজুদ ক্রমশ কমে আসছে। এ অবস্থায় ব্রিটেনের কাছ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতিতে কিছুটা স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *