Home / আন্তর্জাতিক / ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা: লক্ষ্যবস্তু ৬০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা: লক্ষ্যবস্তু ৬০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন যে, ইরান এবং তার সঙ্গে বাণিজ্য করা বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ছয় মাস পূর্তির কাছাকাছি সময়ে এই পদক্ষেপ নিল বাইডেন প্রশাসন, যার লক্ষ্য হলো বিশ্ব অর্থনীতি থেকে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

নিষেধাজ্ঞার আওতা

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, সাইবার কার্যক্রম এবং তেল থেকে আয় করার নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল এবং শিপিং—এই পাঁচটি খাত ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, যেগুলোকে অকেজো করাই তাদের উদ্দেশ্য।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ইরান ছাড়াও চীন, হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সিরিয়া, ইউক্রেন, মার্শাল আইল্যান্ডস এবং গ্রিসের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি রয়েছে। বিশেষ করে হংকং ও চীনে অবস্থিত বেশ কিছু লজিস্টিকস এবং শিপিং কোম্পানিকে ইরানের গোপনে প্রযুক্তি সংগ্রহ ও তেল পাচারে সহায়তার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

নিষেধাজ্ঞার এই নতুন ঢেউ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। দেশটির অর্থনীতি মন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ ব্যর্থ হবে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নতুন কিছু নয় এবং আমেরিকান অবরোধ মোকাবিলার জন্য তাদের নিজস্ব কার্যকর কর্মসূচি রয়েছে। ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সরকার এই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে চীন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, ইরান ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এতে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। এদিকে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে এবং অনেক দেশ মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থনীতির দিকে মনোযোগ দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

মূল উদ্দেশ্য

অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই প্রচারণাকে ইরানের অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ করার চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্যমতে, তেহরান যতক্ষণ না পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে একা হয়ে পড়ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সব অর্থনৈতিক পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে চীনের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশগুলোকে আপাতত বড় ধরনের সরাসরি নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে, যাতে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *