বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদু সালাম বলেছেন, জ্বালানি সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো ‘আলাদিনের চেরাগ’ নেই যে তা ঘষলেই গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। জ্বালানি সংকটের দাবিতে সম্প্রতি রাজনৈতিক দলের লংমার্চের সমালোচনা করে তিনি এই মন্তব্য করেন। জ্বালানি সংকটের এই বাস্তবতায় দেশীয় সম্পদের উত্তোলন ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ৬০ শতাংশেরও বেশি আমদানিনির্ভর। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই আমদানিনির্ভরতা ভবিষ্যতে ৯০ শতাংশে গিয়ে পৌঁছায়, তবে অর্থনৈতিক ঝুঁকি আরও প্রকট হবে। অতীতের সরকারগুলোর আমদানিনির্ভর নীতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে অবহেলা করার ফলে জ্বালানি খাত আজ নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে।
দেশের সংকট উত্তরণে নিজস্ব ভূখণ্ড ও গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা এবং শিল্পকারখানার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত খনির ঝুঁকি ও পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়েও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর মতো জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে জনগণের নিরাপত্তা ও কৃষিজমির সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি উঠেছে। সরকারও এই বিষয়ে সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তিকে কাজে লাগানো এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন দ্রুত শুরুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি খাতে অনিয়ম, অপচয় ও দুর্নীতি রোধ করে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।









