ইয়েমেনের হুদেয়দা ও তায়েজ প্রদেশে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে। প্রেসিডেন্ট লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশিদ আল-আলিমির মতে, এই অভিযান দেশটির পুরো নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই লড়াই ইয়েমেনকে আবারও পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সরকারি বাহিনী শনিবার জানিয়েছে, তারা হুদেয়দা প্রদেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হাইস জেলা পুনরায় দখল করেছে। এছাড়া তায়েজ প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলেও সরকারি সেনারা অগ্রসর হয়েছে। হাইস জেলাটি হুদেয়দা, তায়েজ এবং ইব প্রদেশের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক লড়াইয়ে উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। শনিবার তায়েজ প্রদেশে সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন। সরকারি তথ্যানুযায়ী, আল-জরাহি জেলায় বেশ কয়েকজন হুতি যোদ্ধাকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, পাল্টা হামলায় অন্তত ২৬ জন সরকারি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, লড়াই তীব্র হওয়ায় গত দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে দীর্ঘ সময় তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে আগস্টের শুরু থেকে লড়াই আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। হুতিরা এখনো রাজধানী সানা এবং অন্যান্য বড় শহর নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের মূল লক্ষ্য আল-মাখা বন্দর দখল করা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া, যা লোহিত সাগর ও আরব সাগরের সংযোগকারী বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিপিং রুট।
সৌদি আরবের ভূমিকা
ইয়েমেন সরকারের প্রধান মিত্র সৌদি আরব এই লড়াইয়ে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি বাহিনী নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে। লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ এবং সৌদি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা এই সংঘাতের অন্যতম মূল কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধের পর লোহিত সাগরের এই নৌপথটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য আরও বেশি স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।









