জার্মানির বার্লিন ও মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমেন রাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে, যা চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, মার্জের নেতৃত্বাধীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে, যা তার চ্যান্সেলর পদে থাকার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলবে।
দুই সপ্তাহ আগে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে উগ্র ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) বড় জয় পাওয়ার পর থেকেই মার্জের ওপর চাপ বাড়ছে। সেই নির্বাচনে সিডিইউ-এর ভোট প্রায় অর্ধেক কমে গিয়েছিল। দলের রাজনৈতিক অবস্থা ভালো না হলে মেয়াদের মাঝপথেই মার্জকে সরিয়ে দেওয়ার জল্পনা চলছে। মার্জ অবশ্য পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন, তবে তার জনপ্রিয়তা ক্রমাগত কমছে।
জরিপ অনুযায়ী, বার্লিনে সিডিইউ এবার ‘ডাই লিঙ্কে’ (দ্য লেফট) দলের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমেন রাজ্যে সিডিইউ পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা দলটির ইতিহাসে অন্যতম খারাপ ফলাফল হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চ্যান্সেলর হিসেবে ১৬ মাস দায়িত্ব পালন করলেও মার্জ দলের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি এবং অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে। অনেক ভোটার তাকে অহংকারী ও জনবিচ্ছিন্ন হিসেবে বর্ণনা করছেন। সিডিইউ-এর কিছু স্থানীয় প্রার্থীও মনে করছেন, সাধারণ মানুষের আবেগ বুঝতে মার্জ ব্যর্থ হয়েছেন।
চ্যান্সেলর মার্জ অবশ্য তার অবস্থান শক্ত করতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও কর সংস্কারের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তবে রোববারের এই নির্বাচনের ফলাফল তার জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্জ ইতোমধ্যে তার নিউইয়র্ক সফর বাতিল করেছেন এবং রবিবার সন্ধ্যায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে জরুরি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।









