রাশিয়ার মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের চালানো ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত দুইজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিয়েভ এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা এবং লজিস্টিক সাইট লক্ষ্য করে ইউক্রেন এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দেশটির যুদ্ধ সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করার বড় প্রচেষ্টা।
হামলার বিবরণ
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানী অভিমুখে ধেয়ে আসা ৪৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তিনি একে নজিরবিহীন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হামলার ফলে মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। গভর্নর ভোরোবিয়েভ জানিয়েছেন, সোফিনো এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানলে ৪৪ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এছাড়া ওরেখোভো-জুয়েভো জেলায় একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে ড্রোন আঘাত হানলে এক বয়স্ক ব্যক্তি মারা যান।
পাল্টাপাল্টি হামলা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে, কিয়েভ রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও লজিস্টিক সাইটে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের কিয়েভ ও সুমি অঞ্চলে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলায় তিন শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। যুদ্ধরত উভয় দেশই বর্তমানে একে অপরের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর প্রধান বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভোতে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং ভনুকোভো বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়েছিল। যদিও সকালে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও কিছু ফ্লাইটে বিলম্বের আশঙ্কা রয়ে গেছে। এছাড়া রাশিয়ায় চলমান সংসদীয় নির্বাচনের সময় এই হামলা চালানো হলো, যা রাশিয়ার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এদিকে, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত খেরসন অঞ্চলে বাসে ড্রোন হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন বলে রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।









