কিউবার হাভানায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে পুরো দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ায় রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি ইউনিয়ন ইলেকট্রিকা (ইউএনই) পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছে। ইউএনই জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত রাজধানী হাভানার প্রায় অর্ধেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার, যখন দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় পাঁচটি প্রদেশে প্রথম এই বিপর্যয় দেখা দেয়। পরবর্তীতে তা পুরো দ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে। কিউবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের মধ্যাঞ্চলে উচ্চ-ভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনের ত্রুটি এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এই গ্রিড বিপর্যয় ঘটেছে। এটি ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে হওয়া অন্তত ১২তম এবং এ বছর হওয়া অন্তত ষষ্ঠ বড় বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
কিউবার পুরনো অবকাঠামো এবং জ্বালানির তীব্র সংকট বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার সমস্যা তৈরি করছে। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সরকারের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে গত জানুয়ারিতে জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মার্কিন এই জ্বালানি নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে কিউবা ‘নিঃশব্দ গাজায়’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিদ্যুৎহীনতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। হাভানার বাসিন্দা ফ্রাঙ্ক লরেঞ্জো জানান, গ্রিড বিপর্যয়ের আগে ২৪ ঘণ্টা তার এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। এছাড়া জ্বালানি সংকটের কারণে ডিজেল চালিত বিকল্প জেনারেটর চালানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা লিডিয়া ফার্নান্দেজ জানান, পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে নিত্যদিনের জীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।









