তুরস্কের আঙ্কারায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত তুরস্ক। হুথিদের একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান গত মাসে মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট বা মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর ওপর যেকোনো সশস্ত্র আক্রমণকে তিন দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে আঙ্কারা রিয়াদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
হুথি বিদ্রোহীরা বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরের নৌ-চলাচলের পথকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তুরস্কের এই ঘোষণা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে রিয়াদ ও ইসলামাবাদও কাজ করছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তান কূটনৈতিক ও শারীরিকভাবে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্ব এবং সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানি পথ সুরক্ষিত রাখতে এই জোট সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অধিকাংশ মিত্র দেশ সরাসরি কোনো সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে লজিস্টিক ও গোয়েন্দা সহায়তার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।









