দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের নিকটবর্তী কেম্পটন পার্কে গত দুই মাসে সাতজন নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তিনি জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং কোনো অপরাধীই পার পাবে না।
মঙ্গলবার নতুন করে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে। ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগকেই আংশিক বা সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় নারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, এই সাতটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সরাসরি কোনো সংযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। এটি কোনো সিরিয়াল কিলারের কাজ কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা অপরাধী চক্র এর পেছনে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে কেবল দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সোমবার এলিজাবেথ মোসেলাকগোমো নামের ৩৮ বছর বয়সী এক দৌড়বিদের মরদেহ শনাক্ত করা হয়, যিনি গত সপ্তাহে প্রাত্যহিক জগিংয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন।
নিরাপত্তা সতর্কতা
কর্তৃপক্ষ কেম্পটন পার্কের নারীদের একা হাঁটা বা দৌড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে, বিশেষ করে জনশূন্য এলাকাগুলো এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। জোহানেসবার্গের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত এই এলাকাটিতে নারীদের স্বাভাবিক চলাফেরার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পুলিশের সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে জেন্ডার ইকুয়ালিটি কমিশন।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার হার বিশ্ব গড়ের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। এই হত্যাকাণ্ডগুলো দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও ভয়ের জন্ম দিয়েছে, যেখানে নারীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।










