Home / আন্তর্জাতিক / গণতান্ত্রিক কঙ্গোতে সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে পুলিশের কঠোর দমনপীড়ন

গণতান্ত্রিক কঙ্গোতে সংবিধান সংশোধনের প্রতিবাদে পুলিশের কঠোর দমনপীড়ন

গণতান্ত্রিক কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাসহ বিভিন্ন শহরে প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির প্রস্তাবিত সংবিধান পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার এই বিক্ষোভ দমনে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। সরকারবিরোধীদের আশঙ্কা, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পাবেন, যা দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার আয়োজিত এই বিক্ষোভে কিনশাসার পাশাপাশি দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খনি শহর লুবামবাশি এবং উভিরা শহরেও মানুষ রাস্তায় নামে। বিক্ষোভের সময় অন্তত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিরোধী দলগুলোর জোট ‘সি৬৪’ দেশব্যাপী এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল।

বিক্ষোভ নিয়ে এনভল বিরোধী দলের নেতা ও সি৬৪ জোটের জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মদ ইয়েঙ্গা বলেন, আমাদের অনেক কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভ দমানোর জন্য বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল যা আমাদের বিস্মিত করেছে। তবে প্রাদেশিক পুলিশ কমান্ডার জেনারেল ব্লেজ কিলিাম্বালিম্বা দাবি করেছেন, যারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করেছেন তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

কঙ্গোর বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী একজন প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ দুইবার পাঁচ বছর মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেন। গত জুন মাসে পার্লামেন্ট একটি বিল গ্রহণ করে যা সংবিধান পরিবর্তনের জন্য গণভোটের পথ প্রশস্ত করে। প্রেসিডেন্ট শিসেকেদির জোটের সদস্যরা এই পরিবর্তনের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। তবে বিরোধী দল ও শক্তিশালী ক্যাথলিক চার্চ এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে।

সংবিধান পরিবর্তনের এই বিতর্কিত উদ্যোগের পাশাপাশি দেশটি বর্তমানে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব এবং পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথে চলমান সংঘাতের মতো সংকটের মোকাবিলা করছে। সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় আলোচনার ঘোষণা দেওয়া হলেও তাতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় সহিংসতা নিরসনে রুয়ান্ডার সাথে সম্পর্ক নিয়েও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে ইবোলা নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *