নাইজেরিয়ার লাগোসে দেশটির মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল ড্রাগ ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (এনডিএলইএ) ৪০ বছর বয়সী মেক্সিকান নাগরিক আর্তুরো কারেরা লোয়াইযাকে গ্রেপ্তার করেছে। গত মাসে দেশ ছাড়ার সময় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়। এই গ্রেপ্তারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর সূত্র ধরেই দেশটিতে মেথামফেটামিন তৈরির একটি বড় শিল্পকারখানার সন্ধান মিলেছে, যা মেক্সিকান অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের সময় লোয়াইযার কাছে থাকা ডিজিটাল ডিভাইস থেকে ল্যাবরেটরি কোট পরা অবস্থায় তার ছবি উদ্ধার করে পুলিশ। সেই ছবির লোকেশন ডাটা অনুসরণ করে কর্মকর্তারা ইবোনি প্রদেশে একটি স্থাপনায় তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক ও মাদক তৈরির যন্ত্রপাতি জব্দ করেন।
এনডিএলইএ জানায়, অভিযুক্ত লোয়াইযা মাদক তৈরির সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি স্থানীয় এক পরিচিত ব্যক্তির আমন্ত্রণে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার প্রয়োজনে নাইজেরিয়ায় এসেছিলেন। তবে তদন্তকারীরা ইবোনি প্রদেশের ওই ল্যাব থেকে সিসিটিভি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করেছেন, যেখানে লোয়াইযাকে ল্যাবরেটরি কোট পরা অবস্থায় দেখা গেছে।
এনডিএলইএ চেয়ারম্যান জেনারেল মোহাম্মদ বুবান মারওয়া জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিচ্ছিন্ন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মেথামফেটামিন তৈরির রিয়েকশন পট, ডিহাইড্রেটর, কনডেন্সার, ওয়েইং স্কেল ও গ্যাস বার্নারের মতো সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
তদন্তকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, লোয়াইযা এর আগে ওয়ো প্রদেশে বনাঞ্চলের ভেতরে আরও একটি গোপন ল্যাবরেটরিতে তার এক স্বদেশীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। জুন মাসে সেখানে অভিযান চালিয়ে চার নাইজেরিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও মে মাসে আরও একটি অভিযানে তিন মেক্সিকান ও সাত নাইজেরিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
মারওয়া আরও বলেন, নাইজেরিয়াকে আন্তর্জাতিক মাদক কারবারিদের নিরাপদ স্বর্গ হতে দেওয়া হবে না। নাইজেরিয়ার ঘন বনাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোকে ব্যবহার করে মাদক উৎপাদন কারখানা স্থাপনের যে চেষ্টা চলছে, তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। বর্তমানে এই মাদক নেটওয়ার্কের সাথে অর্থায়নকারী ও সহায়তাকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলমান রয়েছে।








