যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২৫তম বার্ষিকীতে এক উগ্র ডানপন্থী কর্মীকে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এই ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ২০০১ সালের ওই ভয়াবহ হামলার পর বিশ্বজুড়ে শুরু হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ (GWOT) কীভাবে ইউরোপের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে। জর্জিটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রিজ ইনিশিয়েটিভের জ্যেষ্ঠ গবেষক ফরিদ হাফেজ তার বিশ্লেষণে এই বিষয়টি সামনে এনেছেন।
৯/১১-এর আগে ইউরোপের অনেক দেশেই উগ্র ডানপন্থী দলগুলো রাজনীতির মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। তখন তাদের পরিচিতি ছিল মূলত ইহুদিবিদ্বেষী এবং ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের অনুসারী হিসেবে। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকেই তারা ইসলামকে তাদের নতুন শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করে। বিশেষ করে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার মতো দেশে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তাদের বিষোদগার বাড়তে থাকে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। এই নীতি ইউরোপের সরকারগুলোর ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। যুক্তরাজ্যের মতো অনেক দেশ আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়। এর পাশাপাশি মিডিয়া এবং রাজনৈতিক বক্তৃতায় ইসলামকে একটি সহিংস ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা তৈরি হয়, যা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে ইসলামভীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
পরবর্তীতে ‘কাউন্টার-জিহাদ’ আন্দোলনের ব্যানারে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন উগ্র ডানপন্থী সংগঠন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়। তারা দাবি করতে থাকে যে, পশ্চিমা সভ্যতা ইসলামের হুমকির মুখে। এই প্রচারণাকে পুঁজি করে অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও পোল্যান্ডসহ ইউরোপের অনেক দেশে উগ্র ডানপন্থী দলগুলো প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। অনেক জায়গায় তারা মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের ইসলামবিরোধী অবস্থানে আসতে বাধ্য করেছে।
বর্তমানে ইউরোপের অনেক দেশে হিজাব পরা, বোরকা বা মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করাসহ মসজিদ নির্মাণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা কাঠামো এবং প্রচারণা ইউরোপের উগ্র ডানপন্থীদের আজকের এই রাজনৈতিক সাফল্যের পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।









