ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলীয় লোহিত সাগর এলাকায় বড় ধরনের সামরিক অগ্রগতি অর্জন করেছে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা, যা আন্তর্জাতিক এই প্রধান নৌপথটিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও সংহত করেছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের এক সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মুখে অবস্থিত কৌশলগত পেরিম দ্বীপটির দখল নিয়েছে হুতিরা। এর আগের দিন তারা সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ইয়েমেনি সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, হুতিরা এখন পুরো উপকূলরেখার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।
সামরিক পরিস্থিতি ও সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া
হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া জানিয়েছেন, সৌদি আরবের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে তারা এই বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, তাইজ ও হুদাইদা অঞ্চলের ছয়টি জেলা থেকে সৌদি সমর্থিত বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এতে শত শত সেনা হতাহত বা বন্দি হয়েছে। হুতিদের দাবি, সৌদি জাহাজ বাদে অন্য সব কোম্পানির জন্য তাদের মাধ্যমে সমুদ্রপথ নিরাপদ। এদিকে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান হুতিদের এই দ্রুত অগ্রগতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সামরিক হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের বদলে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
গুরুত্ব ও মানবিক বিপর্যয়
হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ হওয়ার পর লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালী বর্তমানে তেলের চালান পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সংঘাতের তীব্রতায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে হুতিদের এই নতুন আক্রমণের ফলে ইয়েমেনে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা প্রতি ঘণ্টায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনেক পরিবার সংঘাতের কারণে বারবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর অসহায় পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।









